বিশ্ববাজারে টিনের দাম সম্প্রতি রেকর্ড সর্বোচ্চে পৌঁছার পর কিছুটা সংশোধনের মুখে পড়েছে। তবে ইন্দোনেশিয়ার রফতানি অনুমতি নিয়ে জটিলতা এবং মিয়ানমারের সরবরাহ ঘিরে অনিশ্চয়তা থাকায় ধাতুটির দাম আবারো বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের শক্তিশালী চাহিদা টিনের দাম ঊর্ধ্বমুখীর পেছনে ভূমিকা রাখছে বলে জানান তারা। খবর দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন।
গত ২৬ জানুয়ারি টিনের দাম টনপ্রতি রেকর্ড ৫৬ হাজার ৮০০ ডলারে পৌঁছায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কেভিন ওয়ারশকে ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) পরবর্তী প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেয়ার পর থেকে ধাতবপণ্যের বাজারে দরপতন দেখা দেয়। সে সময় টিনের দাম রেকর্ড সর্বোচ্চ থেকে প্রায় ১৫ শতাংশ কমে আসে। যদিও বছর শুরু থেকে এ পর্যন্ত ধাতুটির দরবৃদ্ধির হার প্রায় ১৯ শতাংশ।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিএমআই (ফিচ সলিউশনের একটি ইউনিট) জানিয়েছে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও ডলারের বিনিময় হার কমে যাওয়ায় টিনের দাম উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেড়ে গিয়েছিল। এমন প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালের জন্য ধাতবপণ্যটির গড়মূল্য নিয়ে দেয়া প্রাক্কলন সংশোধন করা হয়েছে। চলতি বছর বিশ্ববাজারে টিনের গড় দাম পৌঁছতে পারে টনপ্রতি ৪৫ হাজার ডলার, যা আগে দেয়া পূর্বাভাসে ছিল টনে ৩৫ হাজার ডলার।
সংস্থাটির বিশ্লেষকরা জানান, টিনের দামের এ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। যেকোনো সময় সংশোধনের মুখে পড়তে পারে পণ্যটির বাজার।
ক্যান, ইলেকট্রনিকস সোল্ডারিং ও বিশেষায়িত কেমিক্যাল ব্যাটারিতে বিশ্বব্যাপী টিনের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হয়।
বিএমআই জানায়, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে আইটিএ ঘোষণা দিয়েছিল যে মিয়ানমারের ওয়াঁ রাজ্য থেকে টিনের সরবরাহ পুনরায় শুরু হবে। কিন্তু এরপর আর কোনো অগ্রগতি হয়নি।
অন্যদিকে ট্রেডিং ইকোনমিকস জানায়, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট সুবিয়ান্তো সুমাত্রায় এক হাজার অবৈধ টিনের খনি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। তাই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী দেশটি থেকে সরবরাহ কমে যেতে পারে।
বিএমআইয়ের বিশ্লেষকদের মতে, চীনে পর্যাপ্ত কনসেন্ট্রেটের অভাবে স্মেল্টারগুলোয় টিন উৎপাদন সীমিত রয়েছে। একই সময়ে দেশটিতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে টিনের চাহিদা বেড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইন্দোনেশিয়া থেকে রফতানি অনুমতি-সংক্রান্ত জটিলতা।
উল্লেখ্য, মিয়ানমারের ওয়াঁ প্রদেশে টিন খনন প্রায় তিন বছর আগে স্থগিত হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ খনি পুনরায় চালুর ঘোষণা দিলেও বাস্তবে তেমন অগ্রগতি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্যানুযায়ী, মিয়ানমার বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম টিন উত্তোলনকারী দেশ। দেশটির মজুদ আনুমানিক সাত লাখ টন।